নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড 2025

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার উপায় জানেন কি? বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন তারা নতুন ভোটার নিবন্ধন করার জন্য জমা, আঙুলের ছাপ ও ছবি তোলা ও আনুষঙ্গিক সকল ধাপ অনুসরণ করেছেন কিন্তু নতুন ভোটার আইডি কার্ড পাননি। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে জানাবো, নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার উপায় ও নতুন ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

নতুন ভোটাররা যদি আইডি কার্ড না পেয়ে থাকেন তাহলে এখন ঘরে বসেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করা যায় খুব সহজেই।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য যা প্রয়োজনীয়

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য বেশ কিছু তথ্য একজন নাগরিকের প্রয়োজন হয় এ সকল প্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যে রয়েছে:

  • একটি ইন্টারনেট সংযুক্ত থাকা মোবাইল বা কম্পিউটার।
  • ভোটার ফরম নম্বর ও জন্ম তারিখ।
  • NID wallet অ্যাপ্লিকেশন
  • একটি সচল মোবাইল নম্বর
  • স্থায়ী ঠিকানা
  • উক্ত ভোটারকে

এবার তবে নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার উপায়

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য নাগরিককে বেশ কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে এ সকল ধাপ অনুসরণ করা তেমন কঠিন নয়। নিম্নে সকল ধাপ উপস্থাপন করা হয়েছে:

ধাপ ১: জাতীয় নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন

জাতীয় নির্বাচন কমিশন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন (অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক)। যেহেতু উক্ত নাগরিক নতুন ভোটার সেক্ষেত্রে পূর্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে রেজিস্টার করা নেই । সেহেতু জাতীয় নির্বাচনে কমিশন ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য “অ্যাকাউন্টেরের রেজিস্টার” অপশনে ক্লিক করতে হবে।

image: রেজিস্টার বাটন হাইলাইট করতে হবে।

রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করার পর নিচে উপস্থাপন করা আর ছবির মত একটি পেজ নিশ্চিত হবে কম্পিউটার স্কিনে…

image: একাউন্ট রেজিস্টার ফরম হাইলাইট।

এক্ষেত্রে যে সকল তথ্য প্রদান করতে হবে:

  • “জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর / ফর্ম নম্বর ” বক্সে ফরম নম্বর অর্থাৎ ভোটার নম্বর প্রদান করতে হবে যেহেতু নতুন ভোটার আইডি কার্ড গ্রাহকের হয়নি। যদি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তাকে তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর প্রদান করতে হবে।
  • আবেদন করার সময় যে জন্ম তারিখে প্রদান করেছিলেন উক্ত জন্ম তারিখ দিন-মাস-বছর অনুযায়ী প্রদান করুন।
  • ফর্মে প্রদর্শিত ক্যাপচা পূরণ করুন। যদি ক্যাপচা বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে ফর্মের পাশে থাকার রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করে নতুন ক্যাপচা দেখে ফর্মটি পূর্ণ করুন।
  • সকল তথ্য প্রদানের পর একবার এক নজরে দেখে নিন সকল তথ্য সঠিক হয়েছে কিনা। যদি সফল তথ্য সঠিক থাকে তাহলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করুন

এই ধাপে আপনাকে আপনার বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করতে হবে। তবে আপনাকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যে, ৩ বার ভুল তথ্য প্রদান করার পর, আপনার অ্যাকাউন্টেরটি লক হয়ে যাবে সাময়িক সময়ের জন্য। নিচের ছবিটি অনুসরণ করে আপনি আপনার আর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে পারবেন।

image: বর্তমানেও স্থায়ী ঠিকানা।

আপনাকে অবশ্যই আপনার বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা বিভাগ → জেলা → উপজেলা ভিত্তিতে নির্বাচন করতে হবে। একাউন্টটি লক হওয়া থেকে বিরত থাকতে ২ বারের বেশি ভুল তথ্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকুন।

ধাপ ৩: মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন

রেজিস্ট্রেশন এর সম্পূর্ণ করার জন্য মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হয় এক্ষেত্রে নাগরিকের জন্য যদি মোবাইল নম্বর না থেকে থাকে তাহলে তো নাগরিকের অভিভাবকের মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে পারেন।

উক্ত মোবাইল নম্বরে ৬ ডিজিটের OTP পাঠানো হবে এবং উক্ত মোবাইল নম্বরটি সচল থাকতে হবে ও আপনার নিকট থাকতে হবে।

image: মোবাইলে বার্তা পাঠান ছবি

আপনার সঠিক মোবাইল নম্বরটি লিখুন ও বার্তা পাঠান বাটনে ক্লিক করুন।

image: কোড বক্স

আপনার হাতে থাকা মোবাইল নম্বরে ১০৫ নম্বর থেকে ৬ ডিজিটের ভেরিফিকেশন কোড আসবে। কোডটি উপরের বক্সে প্রদান করে বহাল বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ধাপ ৪: ফেইস ভেরিফিকেশন বা ছবি ভেরিফিকেশন ও পাসওয়ার্ড সেটআপ

নাগরিক তার জাতীয় পরিচয়পত্র অ্যাকাউন্টে লগইন বা রেজিস্ট্রেশন করছে কিনা সেটি জানার জন্য ফেইস ভেরিফিকেশন করা প্রয়োজন হয়।

ফেইস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার জন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে NID wallet নামক অ্যাপটি আপনার মোবাইল ফোনে ইনস্টল থাকতে হবে।

ফেইস ভেরিফিকেশন করার জন্য উক্ত ধাপে আপনার সামনে QR কোড প্রদর্শিত হবে।

image: কিউআর কোড প্রদর্শন।

আপনার মোবাইলটিতে থাকা NID wallet অ্যাপটি ওপেন করুন ও আপনার পছন্দের ভাষা সিলেক্ট করে আপনি সম্মত আছেন এই বাটনে ট্যাপ করে QR কোড স্ক্যান করুন।

image: QR কোড স্ক্যান দেখানো প্রয়োজন।

QR কোড স্ক্যান করার পর ফেইস ভেরিফিকেশনে এবার কিভাবে আপনি আপনার ফেইস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করবেন তার মধ্যে রয়েছে; আপনার সোজাসুজি একটি ছবি তুলবেন, ক্যামেরার দিকে রেখে ডানে ও বামে মাথা একটু ঘুড়াবেন।

image: আর সকল ধাপ ছবির মাধ্যমে দেখাতে হবে।

অবশ্যই NID wallet অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেইস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। ফেইস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে নিজের ছবির মতো আপনার সামনে একটি পেজ প্রদর্শিত হবে:

image: পাসওয়ার্ড সেটআপ পেজ হাইলাইট করতে হবে।

যদি পাসওয়ার্ড সেট আপ করতে চান তাহলে সফলভাবে ধাপটি সম্পূর্ণ করুন। তবে আপনি যদি চান তাহলে এই ধাপটি এড়িয়ে যেতে পারেন। তবে পরবর্তীতে ফেইস ভেরিফিকেশন এর ঝামেলা ছাড়া NID অ্যাকাউন্টে লগইন করতে চাইলে, আপনাকে অবশ্যই,পাসওয়ার্ড সেটআপ বাটনে ক্লিক করে পাসওয়ার্ড সেটআপ করতে হবে।

ধাপ ৫: NID কার্ড ডাউনলোড করুন

পাসওয়ার্ড সেটআপ বা এড়িয়ে যাবার পর, NID ওয়েবসাইটে ভোটারের একাউন্ট এ সংক্রিয়ভাবে লগইন হয়ে যাবে ও অ্যাকাউন্টে ভোটারের ছবি ও প্রোফাইল দেখতে পারবেন।

image: ডাউনলোড বাটন হাইলাইট করতে হবে।

অ্যাকাউন্টে নিচের দিকে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। চাইলে ভোটার আইডি কার্ডটি লেমিনেটিং করে ব্যবহার করতে পারেন।

 নতুন ভোটারের সংশোধিত আইডি কার্ড ডাউনলোড

যদি নতুন ভোটারের কোন কারণে আইডি কার্ডটি সংশোধন করা প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে NID কার্ড সংশোধিত হওয়ার পর নতুন ভোটার সংশোধিত আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন অনলাইন থেকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে।

ভোটার আইডি কার্ডে কিভাবে সংশোধন করব?

ভোটারের যদি ভোটার আইডি কার্ডে কোন ভুল তথ্য থাকে সেক্ষেত্রে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করতে হবে। সংশোধনের আবেদন করার সময় অবশ্যই উক্ত পরিবর্তন এর সাপেক্ষে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা মাতার আইডি কার্ডের স্ক্যান কপি প্রয়োজন হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে করণীয় কি?

জাতীয় পরিচয়পত্র যদি ভোটারের হারিয়ে যায় সে ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানায় গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে এ মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি অর্থাৎ জিডি করতে হবে এবং জিডি কপিটি উপজেলা নির্বাচনে কমিশন অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করার সাথে।

জাতীয় পরিচয়পএ বা ভোটার আইডি কার্ড কবে পাবো?

সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন ও বায়োমেট্রিকের তথ্য প্রদান করার ১ মাস থেকে ৩ মাসের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে পাওয়া যায়। তবে আপনি যদি জানতে চান আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রটি ইস্যু হয়েছে কিনা সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার মোবাইলের SMS অপশন থেকে টাইপ করুন NID <space> Form No <space> DD-MM-YYY ও পাঠিয়ে দিন ১০৫ নম্বরে। কিছু বিশেষ শব্দের অর্থ:

  • Form No = ভোটার স্লিপ নম্বর
  • DD = জন্মতারিখ
  • MM = জন্ম মাস
  • YYYY = জন্ম বছর

২০১৯ সালের ভোটার আবেদনকারীরা কবে ভোটার আইডি কার্ড ও স্মার্ট কার্ড পাবেন?

ইতিমধ্যেই ২০১৯ সালের এ ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং বিতরণ করা চলমান রয়েছে। যদি কোন ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্মার্টকার্ড না পেয়ে থাকেন আপনার এলাকার উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করুন ও প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রদান করুন।

ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয়?

ভোটার নিবন্ধন স্লিপ অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্টের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ডাউনলোড করার জন্য। যদি ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে চেয়ে থাকে তাহলে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে এবং ভোটার আইডি কার্ড হারানো স্লিপের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন পত্র জমা দিতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি ডাউনলোড করার উপায়

জাতীয় পরিচয়পত্রে অনলাইন কপি ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে এবং অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার পর আপনি ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড সংক্রান্ত প্রশ্ন সমূহ

(১) নতুন ভোটার আবেদন করার কতদিন পর নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করা যায়?

নতুন ভোটার আবেদন করার পর এক মাস থেকে তিন মাসের মধ্যে ভোটার আইডি কার্ড ইস্যু হয়ে যায়। তবে প্রথমে SMS এর মাধ্যমে ভোটের আইডি কার্ড ইস্যু হয়েছে কিনা জেনে নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট থেকে।

(২) নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হয়?

নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য তেমন কোন কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না তবে বেশ কিছু তথ্য প্রয়োজন হয় যেমন; ভোটার নম্বর /ভোটার স্লিপ নম্বর,সঠিক জন্ম তারিখ, একটি ইন্টারনেট সংযুক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার, NID Wallet অ্যাপ, একটি সচল মোবাইল নম্বর, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।

(৩) নতুন ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি কি?

আম ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র অনলাইন কপি। স্মার্ট কার্ড প্রদান করার আগে ভোটারদের অনলাইন কপি প্রদান করা হয়। তবে অনলাইন কপি দিয়ে সকল ধরনের কার্যাবলী সাধন করা যায়।

শেষ কথা

জাতীয় পরিচয়পত্র অর্থাৎ ভোটার আইডি কার্ড একজন নাগরিকের অমূল্য সম্পদ। এসে বসবাসকারী একজন নাগরিকের বয়সে যখন আঠার বছরের উপর হয় তখন তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে নতুন যারা ভোটার হয়েছেন তাদের অবশ্যই নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড জানা প্রয়োজন। প্রত্যাশা করি, আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে, নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড ও নতুন আইডি কার্ড সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে পেরেছি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *